দর্শকদের সাড়া না মেলায় দ্বিতীয়বারের মত শুরু হওয়া বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার (BITEF) সময় বাড়ল দুই সপ্তাহ। গতকাল শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান হলেও সাড়া না মেলায় অংশ গ্রহণকারীদের ব্যবসায়ীক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে মেলা কর্তৃপক্ষ এই সময় বাড়িয়েছে।
মেলায় প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়নসহ ১৫০টি স্টল রয়েছে। প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বর্গফুটের আবাহনী লিমিটেডের মাঠে আয়োজিত এবারের রফতানি বাণিজ্য মেলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কার ছাড়াও মিডিয়া বুথের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলায় থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের ব্যবসায়ী গ্রুপের বিশেষ প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়েছে।
কিন্তু মেলায় অংশ নেয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্টল বরাদ্দ নিলেও গ্রাহক না মেলায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মূলত তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই মেলার আয়োজকরা এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে নগরীর হালিশহর আবাহনী মাঠে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকায় বাণিজ্য মেলার জন্য ৩০ একর জমি দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে বাণিজ্য মেলার জন্যও নিজস্ব ভেন্যুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সারাবছর মেলার জন্য ব্যবহার উপযোগী জমি বরাদ্দের পরিকল্পনা আছে।
চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার চট্টগ্রামসহ দেশের উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা শিল্পে বিনিয়োগ করেও শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারেনি। আগামীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিএমসিসিআই প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ থমকে আছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জ্বালানি সুবিধা দেয়া গেছে দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম এখনও অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, সিএমসিসিআই পরিচালক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, সিএমসিসিআই দেশীয় শিল্পের দ্রুত প্রসার, সুরক্ষা, নীতিগত সমর্থন প্রদানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে নীতি নির্ধারণে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণন, প্রচার-প্রসারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিআইটিইএফ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে এ মেলা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন তারা।
from EBIZ NEWS - ২৪ ঘন্টা অনলাইন ব্যাবসায়িক সংবাদ এবং ই-কমার্স নিউজ - www.ebiz-news.com http://ift.tt/1ZGyKVh
via EBIZ-NEWS.COM

Post a Comment